1. : admin :
  2. alhasantune@gmail.com : siteaditor :
বান্দরবান জেলা পরিষদে কারা পেলেন জায়গা, কারা বাদ পড়লেন? লামার প্রতিনিধি নেই কেন—উঠছে বড় প্রশ্ন। - mtvonlinenews
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২২ পূর্বাহ্ন

বান্দরবান জেলা পরিষদে কারা পেলেন জায়গা, কারা বাদ পড়লেন? লামার প্রতিনিধি নেই কেন—উঠছে বড় প্রশ্ন।

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬
  • ১০০ Time View

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন | M TV Online

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ প্রজ্ঞাপনে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের ১৫ সদস্যবিশিষ্ট অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ গঠন করা হয়েছে। একজন চেয়ারম্যান ও ১৪ জন সদস্যের এই তালিকা প্রকাশের পর থেকেই জেলার রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে একের পর এক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—লামা উপজেলার কোনো প্রতিনিধি নেই কেন? আর সদস্য নির্বাচন কোন নীতিমালা, কোন ভারসাম্য এবং কী বিবেচনায় করা হয়েছে?

সরকারি প্রজ্ঞাপনে যা দেখা গেল

প্রজ্ঞাপনে ১৫ জনের নাম, ঠিকানা ও পদবি উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, জেলার সব উপজেলার সমান প্রতিনিধিত্ব চোখে পড়ে না। বিশেষ করে লামা উপজেলার কোনো ব্যক্তির নাম তালিকায় নেই বলে দেখা যাচ্ছে।

স্থানীয়দের মতে, এটি শুধু একটি উপজেলার প্রশ্ন নয়; এটি প্রতিনিধিত্বের প্রশ্ন।

লামা: জনসংখ্যা আছে, গুরুত্ব আছে—প্রতিনিধি নেই কেন?

লামা বান্দরবানের অন্যতম বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা। এখানকার হাজারো মানুষ জানতে চাইছেন—জেলার এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা থেকে একজন সদস্যও কেন মনোনীত হলেন না?

একজন স্থানীয় বাসিন্দার প্রশ্ন—

“লামা কি বান্দরবানের বাইরে? যদি না হয়, তাহলে জেলা পরিষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে আমাদের কোনো প্রতিনিধিত্ব নেই কেন?”

সদস্য নির্বাচন: কোন মানদণ্ডে?

প্রজ্ঞাপনে সদস্যদের নাম প্রকাশ করা হলেও, কী ধরনের যাচাই, যোগ্যতা বা প্রতিনিধিত্বের নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে—সেই ব্যাখ্যা স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই।

এ কারণেই এখন জনমনে কয়েকটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—

  • কোন ভিত্তিতে এই ১৫ জনকে বেছে নেওয়া হয়েছে?
  • সব উপজেলার প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার কোনো নীতি ছিল কি?
  • স্থানীয় নেতৃত্বের মতামত নেওয়া হয়েছিল কি?
  • লামা থেকে কোনো যোগ্য ব্যক্তি বিবেচনায় এসেছিলেন, নাকি পুরো উপজেলাই উপেক্ষিত হয়েছে?

সামাজিক মাধ্যমে বাড়ছে প্রতিক্রিয়া

তালিকা প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য মানুষ ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করছেন। অনেকের বক্তব্য, বান্দরবানের মতো বৈচিত্র্যময় জেলায় পরিষদ গঠনের সময় ভৌগোলিক ও সামাজিক ভারসাম্য আরও গুরুত্ব পাওয়া উচিত ছিল।

তবে অন্যদিকে অনেকে মনে করিয়ে দিচ্ছেন, পাহাড়ি জেলার বিশেষ প্রশাসনিক কাঠামো ও পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনের অধীনে নিয়োগের নিজস্ব প্রক্রিয়া রয়েছে। তাই এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা গুরুত্বপূর্ণ।

এখন যে প্রশ্নগুলোর উত্তর চাইছেন মানুষ

বান্দরবানের সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে কয়েকটি প্রশ্ন এখন সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে—

  • লামা উপজেলার প্রতিনিধি নেই কেন?
  • সদস্য মনোনয়নের মানদণ্ড কী?
  • ভবিষ্যতে সব উপজেলার প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হবে কি?
  • এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে সরকার কি বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেবে?

কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের অপেক্ষায়

এই প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে লামার প্রতিনিধিত্ব না থাকা বা সদস্য নির্বাচন নিয়ে জনমনে ওঠা প্রশ্নের কোনো পৃথক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

বান্দরবানের মানুষ এখন অপেক্ষায়—এই প্রশ্নগুলোর স্বচ্ছ ও যুক্তিসঙ্গত উত্তর কি আসবে, নাকি প্রতিনিধিত্ব নিয়ে বিতর্ক আরও গভীর হবে?

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category