1. : admin :
  2. alhasantune@gmail.com : siteaditor :
প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগের পরও ৬ মাসে উদ্ধার হয়নি জুলাই যোদ্ধা সাদ্দামের দুই রেস্টুরেন্ট। - mtvonlinenews
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২২ পূর্বাহ্ন

প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগের পরও ৬ মাসে উদ্ধার হয়নি জুলাই যোদ্ধা সাদ্দামের দুই রেস্টুরেন্ট।

এম টিভি নিউজ ডেক্স
  • Update Time : শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১৩৪ Time View

আদালতের নির্দেশের পরও ‘উৎসব’ ও ‘পানশী’ বুঝে পাননি মালিক; দখল, হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

ফেনী প্রতিনিধি | M TV ONLINE

জুলাই আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকার দাবি করা ফেনীর সাদ্দাম হোসেনের প্রায় ৭০ লাখ টাকা মূল্যের দুটি রেস্টুরেন্ট ছয় মাস ধরে দখলে থাকার অভিযোগ উঠেছে। ‘উৎসব’ ও ‘পানশী’ নামের রেস্টুরেন্ট দুটি দখলমুক্ত করে প্রকৃত মালিককে বুঝিয়ে দিতে আদালতের নির্দেশ থাকলেও এখনো তিনি ব্যবসা ফিরে পাননি বলে অভিযোগ করেছেন সাদ্দাম।

একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা, হামলা, অপহরণ, নির্যাতন ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগও সামনে এসেছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়—আদালত, পুলিশ সুপারের কার্যালয় ও থানার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানের কাছাকাছিও তাকে একাধিকবার হামলার শিকার হতে হয়েছে বলে দাবি তার।

আন্দোলনের পর ব্যবসায়, এরপরই দখলের অভিযোগ

সাদ্দামের ভাষ্য, ৫ আগস্টের পর বন্ধু, আত্মীয়, স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহযোগিতায় ফেনীতে ‘উৎসব’ ও ‘পানশী’ নামে দুটি রেস্টুরেন্ট গড়ে তোলেন তিনি। তার দাবি, রেস্টুরেন্ট দুটির মোট মূল্য প্রায় ৭০ লাখ টাকা।

ব্যবসা শুরু করার পরই স্থানীয় একটি চক্রের নজরে পড়ে প্রতিষ্ঠান দুটি। তাকে রেস্টুরেন্ট ছেড়ে ফেনী থেকে চলে যাওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন সাদ্দাম।

তার দাবি, এ নিয়ে গত ২৩ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে তার নিজের রেস্টুরেন্টেই প্রথম হামলার ঘটনা ঘটে। পরে তিনি আদালতে মামলা করলে আদালত তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন। সাদ্দামের দাবি, তদন্ত প্রতিবেদনেও হামলার অভিযোগের সত্যতা উঠে আসে।

মামলার পর পাল্টা মামলা, এরপর অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগ

রেস্টুরেন্ট ও হামলার ঘটনায় মামলা করার পর তার বিরুদ্ধে পাল্টা একাধিক মামলা করা হয় বলে দাবি সাদ্দামের।

এরই ধারাবাহিকতায় ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তাকে মারধর করে অপহরণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে ফেনীর বিকন সিদ্দিক টাওয়ারের পাশে একটি পরিত্যক্ত স্থানে নিয়ে রাত ৯টা পর্যন্ত অমানবিক নির্যাতন করা হয়।

সাদ্দামের অভিযোগ, সেখানে তাকে জোর করে নাচানো, বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ এবং পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। মামলা প্রত্যাহার না করলে আরও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয় বলেও দাবি তার।

পরে ফেনী মডেল থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে বলে জানান সাদ্দাম। প্রথমে মামলা নেওয়া না হলেও পরবর্তীতে এ ঘটনায় মামলা গ্রহণ করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।

রেস্টুরেন্ট দখল নিয়ে পিবিআই তদন্ত

রেস্টুরেন্ট দখলের অভিযোগ নিয়ে আদালতের নির্দেশে তদন্ত করে পিবিআই। সাদ্দামের দাবি, পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে রেস্টুরেন্ট দখল এবং প্রায় ২২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে প্রতিবেদনে চাঁদাবাজির অভিযোগসংক্রান্ত ধারা বাদ দেওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে তিনি আদালতে না-রাজি আবেদন করেন বলে জানান। পরবর্তীতে আদালত বিষয়টি তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন।

এদিকে রেস্টুরেন্ট খুলে প্রকৃত মালিককে বুঝিয়ে দেওয়ার বিষয়েও আদালতের হস্তক্ষেপ আসে। সাদ্দামের দাবি, আদালত ফেনী মডেল থানাকে রেস্টুরেন্ট খুলে তাকে বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই নির্দেশ এখনো বাস্তবায়ন হয়নি।

‘আদালতের নির্দেশ থাকলেও দোকান বুঝে পাচ্ছি না’

সাদ্দাম বলেন, তদন্তকারী সংস্থা পিবিআইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে জানানো হয়—তারা তদন্তকারী সংস্থা; সরাসরি দোকান খুলে বুঝিয়ে দেওয়ার এখতিয়ার তাদের নেই। পরে পিবিআইয়ের পক্ষ থেকে আদালতকে ফেনী মডেল থানাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়ার অনুরোধ করা হয় বলে দাবি তার।

আদালত থানাকে নির্দেশ দেওয়ার পরও কেন রেস্টুরেন্ট খুলে দেওয়া হয়নি—এ প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে।

সাদ্দামের অভিযোগ, এর মধ্যে রেস্টুরেন্টের ভেতর থাকা মালামালও ধীরে ধীরে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ঈদের আগে ব্যবসা ফিরে পেয়ে আবার ঘুরে দাঁড়ানোর আশা করেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই আশাও পূরণ হয়নি।

আদালত প্রাঙ্গণেও হামলার অভিযোগ

রেস্টুরেন্ট দখলের বিরোধের মধ্যেই সাদ্দামের ওপর একাধিক হামলার অভিযোগ উঠেছে।

সাদ্দামের দাবি, গত ৩ জুন ফেনী থানার ভেতরে জেলা ছাত্রদল নেতা রশিদ আহমেদ মজুমদার ও তার সহযোগী বাপ্পি তাকে মারধর করেন।

এরপর ৩ আগস্ট ফেনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে তার মামলার আসামি ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ করেন তিনি।

সবশেষ গতকাল ফেনী আদালত প্রাঙ্গণে তার মামলার আসামি জোনায়েদ রব্বানী রিজন, রবিউল ইসলাম রাকিব ও রেজাউল করিম রিদোয়ান তার ওপর হামলা করেন বলে অভিযোগ করেছেন সাদ্দাম।

তিনি বলেন, হামলার সময় আদালতে উপস্থিত একজন নারী তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এসে নিজেও হামলার শিকার হন। পরে তিনি আদালতের একটি স্থানে আশ্রয় নিয়ে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাকে নিরাপত্তা দেয়।

পরে আদালতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও পুলিশ কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানান তিনি। এরপর কয়েকজন আইনজীবী ও মুহুরি তাকে চিকিৎসার জন্য ফেনী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসক প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পাশাপাশি এক্স-রে ও সিটি স্ক্যান করার পরামর্শ দেন বলে জানান সাদ্দাম।

পুলিশের কাছে অভিযোগ, গ্রেপ্তারের নির্দেশ

সর্বশেষ ঘটনার পর থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে গেলে পুলিশ সুপারের সঙ্গে তার দেখা হয় বলে জানান সাদ্দাম। তিনি পুরো বিষয়টি পুলিশ সুপারকে অবহিত করেন।

সাদ্দামের দাবি, পুলিশ সুপার ও সদর সার্কেলের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন। পরে ওসির সঙ্গেও দেখা করলে তিনি বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন বলে জানান সাদ্দাম।

কার আশ্রয়ে এতটা সাহস?

সাদ্দামের অভিযোগগুলো যদি সত্য হয়ে থাকে, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই সামনে আসে আরও বড় একটি প্রশ্ন—

আদালত, জেলা প্রশাসনের কার্যালয়, পুলিশ সুপারের কার্যালয় কিংবা থানার মতো গুরুত্বপূর্ণ ও নিরাপত্তাবেষ্টিত জায়গার আশপাশেও একজন অভিযোগকারী বারবার হামলার শিকার হওয়ার সাহস হামলাকারীরা কোথা থেকে পাচ্ছে?

আর আদালতের নির্দেশ থাকার পরও যদি ছয় মাস ধরে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান প্রকৃত মালিকের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া না হয়, তাহলে আদালতের সেই নির্দেশ বাস্তবায়নে বাধা কোথায়?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর এখন শুধু সাদ্দামের জন্য নয়, আইনশৃঙ্খলা ও বিচারব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থার সঙ্গেও জড়িত।

‘ডিবি অফিসে নির্যাতন দেখে বাবার মৃত্যু’—সাদ্দামের দাবি

সাদ্দামের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ ১৭ বছরের শাসনামলে তিনি একাধিক মামলায় জড়িয়ে বহুবার কারাবরণ করেছেন। ঢাকার মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে তাকে রাতভর নির্যাতনের দৃশ্য দেখে তার বাবা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান বলেও দাবি করেন তিনি। বাবার জানাজায়ও অংশ নিতে পারেননি বলে জানান সাদ্দাম।

তার দাবি, জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কোনো সরকারি ভাতা বা আর্থিক সুবিধা নেননি তিনি। বরং আন্দোলনের পর নিজের পরিচিতজনদের সহযোগিতায় ব্যবসা দাঁড় করিয়ে নতুনভাবে জীবন শুরু করার চেষ্টা করেছিলেন।

কিন্তু সেই ব্যবসাই এখন তার হাতছাড়া। আয়-রোজগারের প্রধান উৎস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে দাবি তার।

প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

সাদ্দামের আরও অভিযোগ, তাকে নিয়মিত ফেনী ছেড়ে চলে যেতে এবং মামলাগুলো প্রত্যাহার করতে চাপ দেওয়া হচ্ছে। সর্বশেষ তাকে ডিসেম্বরের আগেই হত্যা করার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

নিজের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কায় রয়েছেন বলে জানান সাদ্দাম।

এখন অপেক্ষা আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নের

প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ে অভিযোগ করেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী প্রতিকার পাননি বলে দাবি সাদ্দামের।

তার দাবি—দুটি রেস্টুরেন্ট দ্রুত দখলমুক্ত করে তাকে বুঝিয়ে দেওয়া, আদালতের নির্দেশ কার্যকর করা, হামলা-নির্যাতন ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং তার ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।

এখন মূল প্রশ্ন একটাই—

ছয় মাস ধরে দখলে থাকা ‘উৎসব’ ও ‘পানশী’ রেস্টুরেন্ট কবে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরবে?

আর আদালত ও প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে অভিযোগ জানানোর পরও যদি হামলা ও হুমকি অব্যাহত থাকে, তাহলে এই হামলাকারীদের পেছনে আসলে কারা রয়েছে—তা কি নিরপেক্ষ তদন্তে প্রকাশ পাবে?

এই প্রশ্নের উত্তরই এখন অপেক্ষার বিষয়।

M TV ONLINE | অনুসন্ধান অব্যাহত থাকবে।

প্রতিবেদকের নোট: প্রতিবেদনে উল্লিখিত দখল, হামলা, নির্যাতন, হুমকি ও অন্যান্য অভিযোগ সংশ্লিষ্ট নথি, মামলা ও সাদ্দাম হোসেনের বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে। আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা সংশ্লিষ্ট তদন্তের ফলাফলই আইনগতভাবে চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category