লামার বড় নুনারবিলের সাগরের দিন এখন ভয়ের মধ্যে কাটে।
বিকেল নামার আগমুহূর্তে লামার বড় নুনারবিল পাড়ার ছোট্ট এক চা দোকান। কাঠের বেঞ্চ, টিনের চালা, পাশে টঙে ঝুলছে বিস্কুটের প্যাকেট। এখানেই জীবন চলে সাগরের চা, চানাচুর আর পরিশ্রমে গড়া এক টুকরো স্বপ্নের দোকান। কিন্তু সেই স্বপ্নে এখন ভয় আর আতঙ্কের ছায়া।
গত ২ আগস্ট, বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটার দিকে ঘটে যায় অপ্রত্যাশিত এক ঘটনা। স্থানীয় বাসিন্দা মানিক মিয়া দোকানে এসে এক হাজার টাকা পাওনার কথা তুলে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। দোকানের ভেতরেই শুরু হয় বেদম মারধর। পরে এলাকাবাসী এগিয়ে এলে মানিক মিয়া পালিয়ে যান, তবে যাওয়ার আগে নিয়ে যান দোকানের নগদ ১৫ হাজার টাকা, ভেঙে ফেলেন চা ও মুদি সামগ্রীর মালপত্র, ক্ষতি হয় প্রায় ৫০ হাজার টাকার।
সাগর বলে “আমি শুধু ছোট্ট একটা দোকান চালাই, দিন চলে তাতে। এখন রাতে দোকান বন্ধ করে ঘরে ফেরার সময়ও ভয় লাগে। কে জানে, আবার কখন কে এসে মারবে!”
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এলাকার সরদার মনোহর আলী, তরুণ আয়াস মিয়া ও গৃহবধূ নাসিমা। তারা জানান, “মানিক মিয়া দোকানে ঢুকে একেবারে পিটাতে শুরু করেন। আমরা চিৎকার শুনে দৌড়ে যাই, তখন তিনি টাকাপয়সা নিয়ে পালিয়ে যান।”
ভুক্তভোগীর অভিযোগ হামলার পর মানিক মিয়ার ছেলে, লামা উপজেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক কাউসার, তাকে জীবননাশ ও মিথ্যা মামলার হুমকি দিচ্ছেন।
তবে মানিক মিয়া ও তার ছেলে কাউসার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “ঘটনাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
এখন সাগর এক গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। দোকানের ভাঙা তাক, ছেঁড়া ছাউনির দিকে তাকিয়ে বলেন, “সব হারিয়ে ফেলেছি। পুলিশের কাছে গেছি, কিন্তু এখনো কিছু হয়নি। আমি শুধু নিরাপত্তা চাই যাতে আবার কাজটা শুরু করতে পারি।”
স্থানীয়রা জানান, বড় নুনারবিল এলাকায় সম্প্রতি এমন হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা বেড়ে গেছে। এতে সাধারণ মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। মনোহর আলী বলেন, “সাগর খুবই পরিশ্রমী ছেলে। নিজের মতো করে জীবন গুছিয়ে নিচ্ছিল। এই হামলায় তার মনোবল ভেঙে গেছে। আমরা চাই, প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখুক।” সাগরের দোকানের সামনে এখন আর সেই ভিড় নেই। ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপের জায়গায় শূন্য তাক, নষ্ট টিন, আর অসহায় দৃষ্টি যেন এক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার স্বপ্নভঙ্গের প্রতীক।
লামার এই ছোট্ট চা দোকানটি হয়তো কোনো বড় ঘটনার কেন্দ্র নয়, কিন্তু এখানেই প্রতিফলিত হচ্ছে গ্রামীণ জীবনের এক নিঃশব্দ যন্ত্রণা, যেখানে ন্যায়বিচারের আশায় একজন সাধারণ মানুষ নিজের ভাঙা দোকানের পাশে প্রতিদিন নতুন করে ভোরের অপেক্ষা করে।