কুমিল্লার অন্যতম শীর্ষ আলেম শাইখুল হাদীস মাওলানা শাহ ইলিয়াস সিদ্দিকী পীরসাহেব বদরপুরী। মাদরাসায় শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি একজন আধ্যাত্যিক ইসলামিক রুকইয়া চিকিৎসক।
সম্প্রতি কুমিল্লা শহরে তাঁর কালিয়াজুড়ি মাদরাসায় যান তিন ব্যক্তি। তারা নিজেদেরকে প্রথমে রোগী এবং পরে কুমিল্লা টুয়েন্টিফোর টিভির সাংবাদিক পরিচয় দেন। এসময় তারা কুমিল্লা টুয়েন্টিফোর টিভির সাংবাদিক পরিচয়ে আইডিকার্ড বের করেন। মাওলানার কাছে জানতে চান; তাঁর মাদরাসা ও মসজিদের সরকারি অনুমোদন আছে কিনা?
তাদের উপর্যুপরি পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত জেরার মুখে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন বয়োবৃদ্ধ পীরসাহেব। একপর্যায়ে কুমিল্লা টুয়েন্টিফোরের অফিস থেকে হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করে প্রথমে একলাখ টাকা চাঁদা দাবী করেন কথিত চ্যানেলটির সম্পাদক।
পরে একাধিকবার ফোনে সম্পাদক চাপ প্রয়োগ করে সহজ সরল পীরসাহেবকে ৫০ হাজার টাকা দিতে বাধ্য করেন। এরপরে আরও ৫০ হাজার টাকা না দিলে পীরসাহেবের নামে মিথ্যা ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত একটি ভিডিও পাবলিশ করা হয় কুমিল্লা টুয়েন্টিফোর টিভির পেইজ থেকে।
ঘটনাটি দেশ-বিদেশ থেকে অনেকেই শানে সাহাবার নজরে আনেন।
আমরা গতকাল ঘটনাস্থল মাদরাসাটি পরিদর্শন করি। কুমিল্লা টুয়েন্টিফোর টিভির সংশ্লিষ্ট কথিত সংবাদিক অনিককে ফোন করি। কিন্তু তিনি এবং তার সম্পাদক কেউই আমাদেরকে চ্যানেলটির সরকারি কোন রেজিষ্ট্রেশন বা অনুমোদন কোড বলতে পারেন নি। একবার বলেন তথ্য মন্ত্রনালয়ে খোঁজ নিতে, আবার বলেন জেলা প্রেসক্লাব থেকে খোঁজ নিতে।
আশ্চর্যের বিষয় হল; যেখানে কথিত ভুয়া চ্যানেলটির নিজেরই রেজিষ্ট্রেশন নেই, সেখানে তারাই আবার আরেকজনের মসজিদ মাদরাসার রেজিষ্ট্রেশন তালাশ করতে গেলেন!
উল্লেখ্য, কুমিল্লা টুয়েন্টিফোর টিভি নামে এ কথিত চ্যানেলটির বিরুদ্ধে গত সরকারের আওয়ামী প্রতাপশালী এমপি আ ক ম বাহার উদ্দিন বাহারের ক্ষমতাকে ব্যবহার করে; সাধারণ মানুষের কাছথেকে চাঁদাবাজি ও ব্ল্যাকমেইলসহ বিস্তর অভিযোগ রয়েছে।
উক্ত ঘটনায় শানে সাহাবা জাতীয় খতীব ফাউন্ডেশন যথোপযুক্ত আইনী পদক্ষেপ শুরু করেছে।
তবে বিষয়টি সমাধানে আগামী সোমবার পর্যন্ত শানে সাহাবার কাছে সময় চেয়েছেন পীরসাহেব বদরপুরীর ঘনিষ্ঠজন, কুমিল্লার বিশিষ্ট আইনজীবী ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব এডভোকেট কাইমুল হক রিংকু ও প্রেসক্লাব সাংগঠনিক সম্পাদক ইমতিয়াজ আহমেদ দিপুসহ আরও কয়েকজন।