লামার ফাঁসিয়াখালীতে কার্পেটিং সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ।
বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে চলমান কার্পেটিং সড়ক নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। বহু প্রতীক্ষার পর এই সড়ক নির্মাণের উদ্যোগে স্থানীয় জনগণ উচ্ছ্বসিত হলেও কাজের মান নিয়ে এখন দেখা দিয়েছে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম হয়ে ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত প্রায় আড়াই মাইল দীর্ঘ সড়কটি এলজিইডি (LGED)-এর আওতায় টেন্ডারের মাধ্যমে কার্পেটিং কাজের জন্য অনুমোদিত হয়। কিন্তু কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই দেখা যায় নানাবিধ অনিয়ম।
স্থানীয়রা জানান, বক্সের ভেতর বালুর পরিবর্তে কাঁদামাটি ব্যবহার করা হচ্ছে, রোলারিং করার সময় পর্যাপ্ত পানি দেওয়া হচ্ছে না, বক্স কালভার্টে ব্যবহৃত হচ্ছে নিম্নমানের সিমেন্ট, রড ও কংকর। এছাড়া কিছু অংশে দেখা গেছে— এখনো সম্পূর্ণ শুকানোর আগেই পানির মধ্যে ডালাই দেওয়া হচ্ছে। এসব কারণে সড়কটি ভবিষ্যতে দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন,
> “আমরা ভেবেছিলাম এই রাস্তা দিয়ে অবশেষে আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হবে। কিন্তু কাজের মান দেখে মনে হচ্ছে কিছুদিনের মধ্যেই রাস্তাটা ভেঙে যাবে। অথচ কর্তৃপক্ষের কোনো নজরদারি দেখা যায় না।” আরেকজন বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কাজের ঠিকাদার বা কন্ট্রাক্টররা যেন যা ইচ্ছা তাই করছে। এলজিইডির কেউ সাইট পরিদর্শনে এলেও শুধু দাঁড়িয়ে চলে যান, কিন্তু বাস্তব কাজের মান যাচাই করেন না।
মস্থানীয়দের অভিযোগ, কাজের মান নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বপ্রাপ্ত এলজিইডি কর্মকর্তা বা তদারকি টিমের উদাসীনতা এবং অবহেলার কারণেই এসব অনিয়ম ঘটছে। অভিযোগ রয়েছে— মাঠপর্যায়ে উপস্থিত প্রকৌশলীরা অনেক সময় প্রকল্প এলাকার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগও রাখছেন না। জনগণের দাবি কার্পেটিং রাস্তার এই প্রকল্পে ব্যবহৃত প্রতিটি উপকরণের মান, মাপ ও বাস্তব অগ্রগতি যাচাই করতে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত টিম গঠন করা হোক। তারা বলেন, এটি শুধু রাস্তা নয়, ফাঁসিয়াখালীর মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। অনিয়মের কারণে যেন জনগণের কষ্টের অর্থ পানিতে না যায়।”
ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের এই কার্পেটিং সড়কটি যদি মানসম্পন্নভাবে সম্পন্ন হয়, তবে এটি স্থানীয় অর্থনীতি, শিক্ষা ও চিকিৎসা সেবার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে অনিয়ম-দুর্নীতি চলতে থাকলে সেই সম্ভাবনা নষ্ট হয়ে যাবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি এলজিইডি কর্তৃপক্ষের কার্যকর মনিটরিং ও তদারকির মাধ্যমে প্রকল্পটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।