আলীকদমে ৪জন মিথ্যা ধর্ষণ মামলায় হয়রানির অভিযোগ নাসিমা’র বিরুদ্ধে।
বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার ৩ নং নয়পাড়া ইউনের মংচা পাড়ার (মুসলিম পাড়ার) এলাকায় নাসিমা আক্তার নামে এক নারীর বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। ধর্ষণের অভিযোগ এনে প্রথমে মামলার ভয় দেখিয়ে মোটা অষ্কের চাঁদা দাবি করেন,
চাঁদার টাকা না পেয়ে,পরে মিথ্যা মামলা দিয়ে ৪ জন ব্যাক্তিকে হয়রানি করছেন বলে জানান স্হানীয় জনতা। দাবিকৃত চাঁদার টাকা না পেয়ে আলীকদম থানায় একটি মিথ্যা ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন নিরপরাধ ৪ সদস্যের বিরুদ্ধে। এমন অভিযোগ তুলছেন ভুক্তভোগী ও স্হানীয় লোকজন।
জানা গেছে, আলীকদম থেকে বান্দরবান জেলা সদরে আদালতে যাওয়া আসা করতে আর্থিক সংকটের কারণে অনেক কষ্ট হচ্ছে সদস্যদের। ফলে মিথ্যা মামলার কারণে আর্থিক ক্ষতিসহ মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
এদিকে এতিম পরিবারে মেয়ে বলে মানুষের সানিদ্য নিয়ে একটি প্রতারক সক্রিয় সিন্ডিকেট এর মাধ্যমে মংচা পাড়া এলাকার অনেক যুবক ছেলেদের কে ভয় দেখিয়ে মিথ্যা মামলা,মোটা অষ্কের চাঁদা দাবি করে প্রতারনাও করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। টাকা না দিলে নারী নির্যাতন মামলা,নারী ধর্ষণ মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে জানান স্হানীয় লোকজন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নাসিমা আক্তার মংচা পাড়া এলাকার মেয়ে। তার খালাতো ভাইসহ মিলে একটি সিন্ডিকেট এর মাধ্যমে এমন কার্যক্রম পরিচালনা করেন বলে নিশিত হয় প্রতিবেদক। এদিকে গত ১৫ অক্টোবর রাতে আলীকদম পান বাজার জেলা পরিষদ রেস্ট হাউজে দ্বিতীয় তলায় একটি কক্ষে আরও একটি ছেলে নিয়ে,
অসামাজিক কার্যকলাপ করার সময় স্হানীয় জনতা তাদের কে আটক আলীকদম থানা পুলিশের কাছে সোর্পদ করে।পরের দিন বৃহস্পতিবার অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকার অপরাধে তাদের কে বান্দরবান জেলা সদরের একটি আদালতে প্রেরণ করে পুলিশ।
এদিকে গত ১৯ মার্চ আলীকদম থানায় একটি মিথ্যা নারী ধর্ষণ মামলা রুজু হলে এ ঘটনায় গ্রেপ্তার চারজন আসামীকে আটক করে পুলিশ,তারা হলেন আবদুল করিম (১৯), মো. রাসেল (২১), আবদুল মবিন (২০) ও ইকবাল হোসেন (২৪)।
মিথ্যা ধর্ষণ মামলায় ভুক্তভোগী পরিবারের বুলবুল আক্তার,রহিমা আক্তার,মালেখা বেগম,ইকবাল হোসেন এর বউ শাহিনা আক্তার অভিযোগ করে বলেন,আমাদের ছেলেদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে তার খালাতো ভাইরা সিন্ডিকেট গড়ে তুলে মোটা অষ্কের টাকা দাবি করে। আমরা টাকা দিতে না পারা কারণে ২ দিন পরে মিথ্যা নাটক সাজিয়ে,
গত ১৯ মার্চ মাতামুহুরি নদীতে গোসল করে বাড়িতে আসার সময় ইভটিজিং ও পরে মুখ চেপে ধরে তামাক ক্ষেতে নিয়ে সংঘবদ্ধ ভাবে ধর্ষণ করেছে মর্মে থানায় অভিযোগ করেন।পরে পুলিশ তাদের কে আটক করে আদালতে সোর্পদ করে।পরে আদালত জেল হাজতে প্রেরণ করে।আমরা এমন মিথ্যা মামলা থেকে আমাদের ছেলেদের মুক্তির দাবি করছি।
তারা আরও বলেন,এ মংচা পাড়া এলাকা তথা আলীকদম উপজেলার সবাই দেখেছে এবং জানতে পেরেছে নাসিমা নামের মেয়েটি আলীকদম পানবাজার রেস্ট হাউজে পরকিয়া/দেহ ব্যবসা করতে গিয়ে স্হানীয় জনতা আটক করে থাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
এমন অসামাজিক কার্যক্রম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়। তবে মিথ্যা ঘটনাকে পুঁজি করেই পরিবারের অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
মংচা পাড়া মুসলিম পাড়া এলাকার সাবেক সর্দার মোঃ এমদাদত হোসেন ও স্হানীয় ব্যক্তি মোঃ নাছির উদ্দিন বলেন,গত ৮/৯ মাস আগে নাসিমা আক্তার নামের একজন মেয়ে এলাকার ৪ জন অসহায় দরিদ্র পরিবারের ছেলেদের নামে মিথ্যা ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
যাদের বিরুদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ করা হয়েছে তাদের পরিবারে লোক জনের কাছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মোটা অষ্কের টাকা দাবি করে। টাকা না দেওয়ার কারণে ১ দিন পর মিথ্যা মামলা দায়ের করে আলীকদম থানায়। তারা আরও বলেন,
শুধু এ ৪ জন নয়,এলাকায় আরও অনেক যুবক ছেলেদের জীবন নষ্ট করেছে এ মেয়েটি। গত বৃহস্পতিবার রাতে নাসিমা আক্তার পানবাজার রেস্ট হাউজে অবৈধ মেলামেশা করা সময় তাদের কে আটক করে পুলিশ। আমরা নিরহ ৪ জন ছেলের মিথ্যা ধর্ষণ মামলা থেকে মুক্তির দাবি জানাচ্ছি।
আরেক ভুক্তভোগীর স্ত্রী শাহিনা বেগম বলেন,আমার স্বামী দিন মজুর করে আমাদের সংসার চালায়।
এখন আমাদের অনেক কষ্ট হচ্ছে, ছেলে- মেয়েদের পড়ালেখা করতে পারছে না। এমন মিথ্যা মামলা থেকে আমার স্বামীর মুক্তি চাই। মামলা দিয়ে আমাদের নানাভাবে হয়রানি করে যাচ্ছে। নাসিমা আক্তারের দায়ের করা এই মিথ্যা মামলার অত্যাচার থেকে আমরা বাঁচতে চাই।
অভিযুক্ত নাসিমা আক্তারের মোবাইল ফোনে একাধিক বার কল দিয়েও যোগাযোগ করা হয়নি। কারণ তার ব্যবহৃিত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
আলীকদম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মীর্জা জহির উদ্দিন বলেন,গতকাল পানবাজার রেস্ট হাউসে অসামাজিম কার্যক্রম করার অভিযোগে নাসিমা বেগমসহ একজন ছেলে কে আটক করা হয়।পরে তাদের কে আদালতে পাঠান হয় বলে জানান।